সুইডেনের স্টকহোম ক্লাবের দশ বছর পূর্তি পালিত হলো জাঁকজমকভাবে। আজ থেকে দশ বছর আগে সুইডেন প্রবাসী বাঙালিদের নিয়ে গঠিত হয় স্টকহোম ক্লাব। ক্লাবের অন্যতম লক্ষ্য সদস্যদের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন স্থাপন, অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও একাগ্রতা দিয়ে প্রবাসী বাঙালি সমাজের উন্নয়ন সাধন। সেই সাথে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাংলাদেশী সমাজ ও কৃষ্টিকে তুলে ধরা। ক্লাবটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং সকলপ্রকার বৈষম্য ও সহিংসতাবিরোধী।

দশ বছর আগে সুইডেন প্রবাসী বাঙালি সমাজে একের পর এক দেশীয় সমিতি গড়ে উঠে এবং স্বার্থ সংঘাতে ভেঙ্গে পরে। সেই পটভূমিকায় স্টকহোম ক্লাব এক বৈচিত্র্য ও বিশিষ্টিতা নিয়ে এগিয়ে গেছে। প্রাথমিক অবস্থায় বিশিষ্ট কয়েকজনের একনিষ্ঠ শ্রম, সময়, সহযোগিতা ও নিষ্ঠায় ক্লাবটি বর্তমানে বাঙালি সমাজের প্রতিভূ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্টকহোম ক্লাবের পূর্ব নাম ছিলো সিনিয়র সিটিজেন ক্লাব। সিনিয়র সিটিজেনরা ৫৫ বছর হলেই বিশেষ ব্যবস্থায় ক্লাবের সদস্য হতে পারেন। তবে আমরা বাঙালি যেহেতু ধর্ম ও রাজনীতি বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত সচেতন এবং এই নিয়ে সমাজ পরিবার ও সংগঠনে ধরে ভাঙ্গন সে জন্যই ধর্ম ও রাজনৈতিক বিষয়ে তর্ক, আলোচনা সমালোচনা ক্লাবে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এই বিধি নিষেধের জন্যই ক্লাবটি সম্প্রীতির পথে এগিয়ে গেছে।
প্রতিবছর ক্লাবে জাঁকজমকভাবে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এরমধ্যে বাংলা নববর্ষ, পিঠা উৎসব, বিভিন্ন জয়ন্তী পালন, বিংগো লত্ত, ক্যারম প্রতিযোগিতা, ঈদ পূর্নমিলনী, দূরবর্তী স্থানে পিকনিক ইত্যাদি। বর্তমানে ছোটোখাটো একটি লাইব্রেরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ দশ বছরের পথযাত্রায় ২০২৫ সালের নভেম্বরের উনত্রিশ তারিখে সোলেন্টুনা স্থানীয় স্টার হেটেলে ক্লাবের দশবছর পূর্তী অনুষ্ঠান ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ ফোরকান। তিনি ক্লাবের পূর্ববর্তী ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। এরমধ্যে উপাদেয় ডিনার পরিবেশন করা হয়। ডিনারের ফাঁকে ফাঁকে ও ডিনারের পর স্মৃতিচারণামূলক বক্তব্য রাখেন ক্লাবের পুরানো সদস্য ডক্টর মাহফুজ, জনাব হারুন চৌধুরী, প্রাক্তন সভাপতি রিফায়েত হোসেন ও খন্দকার মেজবাহউদ্দিন, বর্তমান সম্পাদক আলী ইন্তিয়াজ শান্তু, প্রাক্তন সম্পাদক আবিদ হোসেন ও সদস্য লিয়াকত হোসেন প্রমুখ। জনাব সানী ও জনাব মঞ্জুরের সহযোগিতায় লটারির মাধ্যমে পাঁচহাজার ক্রোনার ও তিন হাজার ক্রোনার মূল্যের দুটি প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন সদস্যা সীমা গনী ও সহযোগীরা। ক্লাবের সদস্যগণ অনুষ্ঠানটি আন্তরিকতায় উপভোগ করেন।











