ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬



  বিভাগ : ফিচার তারিখ : ১৩-০১-২০২২  


স্মৃতিময় চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-১


  লিয়াকত হোসেন, সুইডেন থেকে



লিয়াকত হোসেন: বাবার কথা দিয়ে শুরু করি।
বাবা ছিলেন জেলা পর্যায়ের শিক্ষাবিভাগীয় কর্মকর্তা। জাঁদরেল কর্মকর্তা বলা যায়। কোনো জেলায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হলেই তাঁকে পাঠানো হতো। সেই সূত্রে ছোটবেলায় বাংলাদেশের বহু জেলা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। সেবার বাবা দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রাম জেলায় বদলি হয়ে এলেন। চট্টগ্রাম শহরের আন্দরকিল্লার লাভ লেনে উঠে এলাম ও সরকারি মুসলিম হাইস্কুলে ভর্তি হলাম। সেই প্রথম চট্টগ্রামের সঙ্গে পরিচয়। আমরা সমতলের মানুষ। এলাম উঁচু নিচু পাহাড়ি এলাকায়। শহরের রাস্তাগুলো উঁচু নিচু কাব্যময় দেখে মোহিত হয়ে গেলাম। স্কুলে যাই আর টো টো করে এ-রাস্তা ও-রাস্তা হয়ে বাসায় ফিরি। একদিন পতেঙ্গায় নীল সমুদ্রের ঢেউ দেখে চোখে ঘোর লেগে গেলো।
দেখতে দেখতে দিন গেলো আর ম্যাট্রিক পরীক্ষা সামনে এসে দাঁড়ালো। পরীক্ষার ফলাফল হাতে আসার পর দেখা গেলো মোটামুটি উৎরে গেছি। তবে অঙ্কে আশাপ্রদ নাম্বার আসেনি। এদিকে বাবা আবার অঙ্কে মাস্টার্স। আর যায় কোথায়? মার্কসিটটা হাতে নিয়ে হির হির করে টেনে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে আর্টসে ভর্তি করে দিলেন। ভাবলাম যাক, অঙ্কের হাত থেকেতো বাঁচা গেলো। প্রথম কলেজে রঙ্গিন দিন কাটতে লাগলো। স্কুলে ছিলো পায়জামা-সার্ট, কলেজে উত্তরণ হলো প্যান্ট-সার্টে। আবু হেনা মুস্তাফা কামাল ছিলেন বাংলার অধ্যাপক। জাঁদরেল অধ্যাপক। অসাধারণ শব্দচয়নে পড়াতেন। অনেক সময় তাঁর বক্তৃতার লক্ষ্যবস্তু হতো বেচাল শাড়ি, সালোয়ার কামিজ আর থুতনিযুক্ত দাড়ি। তবু তাঁর বক্তৃতায় হলকক্ষ ভরে যেতো। তবে স্যারের অসাধারণ শব্দচয়ন, তির্যক বলার ভঙ্গী, আকাশের মেঘ, পথের পাশে ফোটা ফুলের সৌন্দর্যে বাংলার প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি আলাওল হল
স্কুল আর কলেজ সময়টায় চট্টগ্রামকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম।
চট্টগ্রামের আকাশ বাতাস পাহাড়ের মাথায় ছেড়া শরতের মেঘ মাথার ভেতর বসে গিয়েছিলো। এর মধ্যে বাবা আবার বদলি হলেন। আমরা চট্টগ্রামের স্মৃতি নিয়ে চলে এলাম ময়মনসিংহ। ময়মনসিংহ শহর চট্টগ্রামের মত তত উন্নত নয়, তবে ব্রহ্মপুত্রের পাড় ছিলো দর্শনীয়। ভর্তি হলাম আনন্দমোহন কলেজে। বাসা থেকে আনন্দমোহন খুব একটা দূরে নয়, শহরের ভেতর দিয়ে যাওয়া যায় আবার রেল লাইনের স্লিপারের উপর লাফিয়ে লাফিয়ে দ্রুত আনন্দমোহনের পেছনের গেইট দিয়ে ক্লাসে চলে আসা যায়। এইভাবে স্লিপারের উপর দিয়ে হাঁটা ও ভারসাম্যটা শিখে গেলাম।
ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোতের মতো দিনগুলো যায়।
আবার পরীক্ষা। পরীক্ষাশেষে ফলাফল হাতে পেয়েই বাবা টাকা পয়সা দিয়ে পাঠালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে। ঢাকায় ভর্তি ফরম জমা দিয়ে রাতের ট্রেনে চলে গেলাম চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম আমায় নেশার মত টেনেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার মতো শহরের ভেতর নয়, প্রাকৃতিক পরিবেশে পাহাড়ের উপর। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নয়। শহর থেকে বাসে হাটহাজারী তারপর রিক্সা নিয়ে লাল সড়কে ধূলা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়। সারারাত ট্রেনের পর যখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে দাঁড়ালাম তখন দুপুর।

সৈয়দ আলী আহসান
প্রশাসনিক ভবনের সামনে ছেলে মেয়ের জটলা।
অপরিচিত মুখ। কাউকে চিনিনা। খোঁজ নিয়ে জানলাম বাংলায় ভর্তির ইন্টারভিউ চলছে। চিন্তা করে দেখলাম  আগেতো ভর্তি হই তারপর দেখা যাবে, বিষয় পরিবর্তন করা যাবে। তাড়াতাড়ি ফরম পূরণ করে বেয়ারাকে দিয়ে ইন্টারভিউ বোর্ডে পাঠালাম। কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেলো ইন্টারভিউ আজই হবে। কোথাও যেন না যাই। রাত আর সকালে কিছু খাওয়া হয়নি। কিছু খাওয়া দরকার। একজন আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দিলো ক্যাফেটেরিয়া। ঝকঝকে ক্যাফেটেরিয়াটি আর একটি টিলার উপর। উঁচু নিচু পথে হেঁটে যেতেও সময় লাগে। চারদিক কাচের দেয়ালে ঘেরা ক্যাফেটেরিয়া। পরোটা সবসময় আমার পছন্দ কিন্তু সময় নেই। চা সিঙ্গাড়ায় সন্তুষ্ট থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে দাঁড়ালাম। তখনো আমার ডাক আসেনি। ভাইবা বোর্ডে কে কে আছেন? খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সৈয়দ আলী আহসান, করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন, এরপর বাংলা একাডেমির পরিচালক থেকে তাঁকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে। বোর্ডে আরো আছেন অধ্যাপক কাইউম, সুলতানা কাইউম, হায়াৎ মামুদ। কাউকে চিনতে পারলাম না।
ইন্টারভিউ বোর্ড থেকে কেউ হাসি মুখে আসছেন আবার কেউ বা মুখ কালো করে। ভেতরে কী চলছে কেউ কিছু বলছেন না। ভয় পেয়ে গেলাম। রবিঠাকুর, শামসুর রাহমান, গোলাম মুস্তফা, নজরুল, জীবনান্দ কারো কোনো কবিতা মুখস্থ নেই। তবে শরৎচন্দ্র, রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত, দেবদাস এগুলো পড়া আছে। কী হবে জানিনা ভাবতে ভাবতেই ডাক এলো। ভারি পর্দা সরিয়ে ঘরে প্রবেশ করেই সামনের টেবিলজুড়ে কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখলাম। সবাইকে একে একে সালাম দেয়া শেষ হতেই গুরুগম্ভীর স্বরে শুনতে পেলাম ‘বসো‘। মুখে বিখ্যাত চাপদাড়ি নিয়ে অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, হাতে আমার আবেদন ফরম।
প্রাসঙ্গিক কথা শুরু হলো।
নাম কি, কোথায় থাকি, বাবার নাম, কোথা থেকে এসেছি ইত্যাদি। সবাই ঘুরে ফিরে হাতে হাতে আমার স্কুল কলেজের সার্টিফিকেটগুলো খুটিয়ে দেখছেন। সময় যাচ্ছে, আমি ভেতরে ভেতরে ঘামছি। ঘন পর্দায় ঢাকা ঘরে আলো কম। অবশেষে প্রশ্ন করলেন অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, বুঝলাম তিনিই বোর্ডের চেয়ারম্যান। প্রশ্ন করলেন,‘ছোট গল্প আর উপন্যাসের মধ্যে পার্থক্য কী?‘ প্রশ্ন শুনেই গলা শুকিয়ে এলো। খেয়ালের বসে শ্রী সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বঙ্গসাহিত্যে উপন্যাসের ধারা’ বইটা হালকাভাবে পড়েছিলাম। কিন্তু জীবনে এই ধরনের প্রশ্নের যে সম্মুখিন হবো ভাবিনি। কিন্তু উত্তরতো দিতে হবে। ছোট প্রেম ছোট কথা ছোট ছোট দুঃখ ব্যথা এই সবের ভেতর দিয়েই গেলাম না। বললাম স্যার, ‘টর্চের আলো’। আবার গুরুগম্ভীর প্রশ্ন,‘কী বললে?’ ততক্ষণে একটা ঢোক গিলে গলাটাকে ভিজিয়ে নিয়েছি। ভেতরে ভয়ের ভাবটা চলে গেছে। বললাম, ‘স্যার ছোট গল্প আর উপন্যাসের মধ্যে পার্থক্য টর্চের আলোর মত। একটা টর্চের আলো যদি খুব কাছ থেকে দেয়ালে ফেলি তাহলে আলোর বৃত্তটা হবে ছোট, ওটাই ছোট গল্প আর টর্চের আলোটা টেনে দূরে সরিয়ে নিলে আলোর বৃত্তটা হবে বড়, ওটাই উপন্যাস।’
আহসান স্যার অনেকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
অন্যেরা কোনো প্রশ্ন করলেন না। আবার ভরাট কন্ঠ, ‘পাশের রুমে যেয়ে ভর্তির টাকা জমা দিয়ে দাও।’ বুঝলাম পরীক্ষায় উৎরে গেছি। সাহস পেয়ে বললাম, ‘স্যার আমার থাকার জায়গা নেই’। আহসান স্যারই বললেন, ‘আলাওল হলে তোমার সিট হয়ে যাবে।' 

দ্বিতীয় পর্ব
ইন্টারভিউ বোর্ড থেকে বের হয়ে এলাম।
আরো কয়েকজন অপেক্ষায়। কেউ কোনো কিছু জানতে চাইলেন না। হাঁটতে হাঁটতে টিলার মাঝে এসে দাঁড়ালাম। পড়ন্ত দুপুরের গরম হাওয়া বইছে। টিলার নীচে সমতল জায়গায় ফুটবল মাঠ। দুপাশে দুই গোল পোস্ট। মাঠে রাখাল বালকদের গরু চড়াতে দেখা গেল। ফুটবল মাঠের ধার দিয়েই পিচঢালা পথ উঁচু হয়ে আবার নীচে নেমে গেছে। ওদিকে আলাওল হল। কবি সৈয়দ আলাওলের নামে নাম। আলাওল সম্ভবত ১৬০৭ সালে বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার ফতেয়াবাদে জন্মগ্রহণ করেন। আরাকান রাজসভার অন্যতম কবি হিসেবে আবির্ভূত হলেও আলাওল মধ্যযুগের সমগ্র বাঙালি কবির মধ্যে অন্যতম। প্রায় তিন বছর সময়ব্যয়ে  ১৬২৭ সালে তিনি রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘পদ্মাবতী‘। পদ্মাবতী মূলত হিন্দি ভাষার কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির কাব্য পদুমাবৎ-এর বাংলা অনুবাদ। পদ্মাবতীর রূপ ও প্রেমের আবেদন এখনো মুছে যায়নি। পদ্মাবতীর প্রেমে বিমোহিত হননি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। পরবর্তীতে ভারতের চিতোরে পদ্মাবতীর মহল দর্শনে বিহŸল হয়েছিলাম, সে অন্য প্রসঙ্গ।

হাঁটতে হাঁটতে প্রশাসনিক ভবনের অন্য একটি কক্ষে এলাম।
ভর্তির ফি জমা দিয়ে আজই ফিরতে হবে। যার কাছে এলাম তাকে দেখেই চেনা মনে হলো। মহসিন না? মহসিন চেয়ার থেকে লাফিয়ে এগিয়ে এলো।
-আরে তুই? তোর আবেদনে দেয়া ছবি দেখে ভাবছিলাম একে তো চিনি।
মহসিনকে ঠিকই চিনতে পেরেছিলাম। যোগাযোগ ছিন্ন হলেও চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের বন্ধু ছিলাম আমরা। সে সময় দুজনে সাইকেলে চেপে কত জায়গায় যে গিয়েছি, ঠিক নেই। মহসিনকে দেখে বিস্মিত হলাম। সেকি কলেজ ছেড়ে দিয়েছে? সামনের চেয়ারে বসতে বললো। আমার চেখে প্রশ্নবোধক চিহ্ন। মহসিন চোখের ভাষা পড়তে পেরে জানালো, ‘কি করবো বল! চটজলদি বিয়ে করে ফেললাম। আর সংসার টানতে চাকরিতেও ঢুকে গেলাম। ঐযে লাল সালোয়ার কামিজের কথা মনে নেই তোর? মনে ছিলোনা তবে এখন মনে হলো। কলেজ কম্পাউন্ডে দূর থেকেই দুজনের চোখাচোখি হতো, এর বেশি কিছু লক্ষ্য করিনি। চোখের ভাষা দিয়েইতো শুরু হতো, ঐ ভাষা উপেক্ষা করা কঠিন।
সবকিছু রেজিস্ট্রারে উঠিয়ে একটি খাম এগিয়ে দিলো মহসিন।
সেশান শুরু হতে আরো দুই সপ্তাহ বাকি। এর মধ্যে চিঠি দিয়ে হলের সিটের বিষয়টা জানিয়ে দেবে।
-আজই চলে যাবি? রাতটা আমার এখানে কাটিয়ে ভোরের ট্রেনে যা, মহসিন বলে। কিন্তু নব বিবাহিত দম্পতিকে স্পেস দিয়ে বের হয়ে এলাম। আজ রাতেই ফিরে যেয়ে বাবাকে জানাতে হবে। বাইরে এসে দেখি কয়েকটি ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক গাড়ি ছাড়া আর কোন যানবাহন নেই। পাহাড়ের ঢালুতে নেমে এলাম। রাস্তার পাশেই রিক্সা দাঁড়িয়ে থাকে। পড়ন্ত বিকেলে কোন রিক্সা পাওয়া গেলোনা। হয়তো ছিলো, ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে চলে গেছে। হেঁটেই হাটহাজারির মোড় বাসস্ট্যান্ডে চলে এলাম। এরপর রাতের ট্রেনে ঢাকা হয়ে ময়মনসিংহ। ঢাকা থেকে দ্রæতযানে যখন ময়মনসিংহ পৌঁছালাম তখন ঘড়ির কাঁটা বেলা দশটা পেরিয়ে গেছে।
বাবা বাসায় নেই। অফিসে।
মা শুনে রাগ করলেন। ঢাকা কাছে ছিলো। মা’র রাগ করার কারণও আছে। বড় ভাই রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে, আমিও যাচ্ছি দূরে, বোনেরাই শুধু কাছে। একজন ময়মনসিংহ মেডিক্যালে, অন্য দুইজন আনন্দমোহনে। সব চাপ যেয়ে পড়লো ছোট ভাইয়ের উপর। তাকে বাইরে ছাড়া হলোনা, ওকে ভর্তি হতে হলো ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাসায় থেকেই ক্লাস করবে। বাসায় ফিরে বাবা গুম হয়ে রইলেন। হয়তো ভাবলেন আমি বিদ্রোহ করে ফেলেছি। তবে আমার আগ্রহ দেখে মানিয়ে নিলেন। পিতা-মাতার এই মানিয়ে নেয়া খুব কষ্টের। কে চায় তার সন্তান চোখের আড়াল হোক?  
বাবা জানতে চাইলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে কোন ব্যাংক আছে কী না?
জানালাম অগ্রনী ব্যাংকের একটি শাখা আছে। দিনকয়েক পর ময়মনসিংহ অগ্রনী ব্যাংকের ম্যানেজারের কাছে নিয়ে যেয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে দিলেন-যাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে টাকা উঠাতে অসুবিধে না হয়। ম্যানেজার সাহেব সেরকম নির্দেশ দিয়ে কাগজপত্র বুঝিয়ে দিলেন। ব্যাংকের বিষয়টা মাথায়ই আসেনি, কিন্তু বাবা ভোলেননি।
দু’সপ্তাহ দেখতে দেখতেই কেটে গেলো।
এরমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি পেলাম। খামের ভেতর মহসিনের চিরকুট। হলে সিট বরাদ্দ হয়েছে। তবে গৃহ প্রবেশে দুই মাস লাগবে। আগের সেশানে যারা ছিলেন তাদের হস্তশিল্পে দেয়াল বিবর্ণ। চুনকামে সময় নেবে। চুনকামের আওতায় পরেছে আরো কয়েকটি রুম। ঐ সাময়িক সময়ের জন্য কর্তৃপক্ষ হাটহাজারীতে বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন। এমন একটি বাড়ি আমার ও আমান নামে একজনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।  
বাড়ির বিষয়টা বাবা-মাকে জানালাম না।
চিন্তায় থাকবেন। দুমাস দেখতে দেখতে চলে যাবে। নির্ধারিত সময়ে ও দিনে হাটহাজারীর বাড়িতে এসে উঠলাম। রাস্তার ধারে দোতলা বাড়ি। নিচের তলায় আলু পটলের দোকান। ঘরের কল দিয়ে মাঝে মধ্যে পাশের পুকুরের ময়লা জল উঠে আসে। পরদিন আমান এলো, টাঙ্গাইল কালিহাতির ছেলে। সঙ্গে বইপত্র ও এয়ারগান। খুব যত্নে এয়ারগানটি ঘসে ঘসে পরিস্কার করে রাখলো। বুঝলাম পাখি শিকারের শখ। আমান খুব গোছালো তবে উদাসী। সদ্য বিবাহিত স্ত্রী রেখে এসেছে। শ্বশুর উপহার হিসেবে এয়ারগান দিয়েছেন। পড়ার চাপে জামাতা যেন বিষন্ন না থাকে।
পরদিন সকাল নয়টায় বিভাগীয় ক্লাশে উপস্থিত হলাম।
অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ সম্পর্কে অপূর্ব এক ভাষণ দিলেন। মুগ্ধ হয়ে শুনলাম। আইয়ামে জাহেলিয়া বা অন্ধকার যুগ সম্পর্কে জানতাম তবে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ? বিষয়টি জটিল। ভাষণশেষে বললেন, এই সম্পর্কে টিউটোরিয়াল এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে। টিউটোরিয়াল বিষয়টা বুঝলাম না। আমানও কিছু বলতে পারলোনা। দু’একজনকে প্রশ্ন করে মোটামুটি ধারনা পাওয়া গেল। ১২০১ হতে ১৩৫১ খৃষ্টাব্দ এই ১৫০ বছরে বাংলা সাহিত্যে কোন উল্লেখযোগ্য সাহিত্য রচিত হয়নি বলেই এই সময়টা অন্ধকার যুগ। আবার ড. এনামুল হক, ড. সুকুমার সেন, ড. যদুনাথ সরকার তা মানতে চান না, বিষয়টা আরো জটিল। এই জটিলতার মধ্যে টিউটোরিয়াল জমা দিলাম, ফলাফল বি-মাইনাস। বুঝলাম সাহিত্যের অন্ধকার যুগ আমার ভেতর বিরাজমান। (চলবে)

স্টকহোম, সুইডেন

 


 নিউজটি পড়া হয়েছে ৮৩৪ বার  






 

ফিচার

 
বাঙালির আত্মঘাতী সংস্কৃতি

 
আলো ভুবন ট্রাস্ট ও একজন ড. গোলাম আবু জাকা‌রিয়া

 
ব্লাডি মেরি: আয়নার আড়ালের রহস্য!

 
‘হিপনোথেরাপি: সম্মোহনের মাধ্যমে চিকিৎসাপদ্ধতি’

 
ইলুমিনাতি: রহস্যেঘেরা একটি গুপ্ত সংঘটন

 
বাংলাদেশ-সুইডেন প্রশাসনিক তুলনামূলক চিত্র

 
আত্মহত্যা কোনো প্রতিবাদ নয়, অপরাধ

 
পলাশি থেকে বত্রিশ নম্বর, বিশ্বাসঘাতকতার নির্মম ইতিহাস!

 
কোডেক্স গিগাস: শয়তানের বাইবেল

 
বিশ্বে জনসংখ্যা কমবে নাটকীয় হারে!

ফিচার বিভাগের আরো খবর






 

আমাদের  মানচিত্র

ঠিকানা: দেওয়ান কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৬০/ই/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
ঢাকা: পল্টন রিসোর্সফুল সিটি, ৫১/এ পুরানা পল্টন (৪র্থ তলা), ঢাকা-১০০০।
নারায়ণগঞ্জ: ৪৫/৩ মতিন ভিলা, হাজী ব্রাদার্স রোড, জামতলা, নারায়ণগঞ্জ।

ফোন: ০১৯১৪-৭৩৫৮৫৮, ০১৯১৪-৮৭৫৬৪০

 


সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি
আবদুল্লাহ আল হারুন
প্রধান সম্পাদক
আসিফ হাসান নবী

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো. জিয়াউল হক
বিশেষ সংবাদদাতা
র‌বিউল ইসলাম সো‌হেল

 


President of the Editorial Board
Abdullah Al-Harun
Chief Editor
Asif Hasan Nabi

Editor & Publisher
Md. Ziaul Haque
Special Correspondent
Robiul Islam Sohel

  Location Map
Copyright © 2012-2026

All rights reserved

concept, design
& developed by

corporate work
 

  info@amadermanchitra.news       amadermanchitrabd@gmail.com