আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের রাজনীতির সমীকরণও তত পাল্টাচ্ছে। বর্তমানে নতুন সমীকরণের পথে হাঁটছে দেশের রাজনীতি। দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় এখন দৃশ্যপটে নেই বিএনপির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। ভোট ও মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি এখনো দেশের অপ্রতিদ্বন্দ্বী জায়গায় থাকলেও আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একসময়ের চারদলীয় জোট সরকারের অংশীদার ও মিত্রদল জামায়াতে ইসলামী। বিএনপি এবং জামায়াত এখন মুখোমুখি। কী হবে সামনের ভোটের রাজনীতি? কোন পথে এগুবে দেশ? এ নিয়ে এই সংখ্যার বিশ্লেষণ।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনীতিতে নয়া সমীকরণের প্রস্তুতি চলছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় এখন দৃশ্যপটে নেই তারা। ভোট ও মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি অপ্রতিদ্বন্দ্বী জায়গায় থাকলেও আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একসময়ের চারদলীয় জোট সরকারের অংশীদার ও মিত্রদল জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনি জোট গঠন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংসহ নানা কৌশল গ্রহণের পরিকল্পনাকে বুদ্ধিবৃত্তির খেলা বলে মনে করছে দলটি। বিপরীতে জামায়াতের এই চ্যালেঞ্জকে সাদরে গ্রহণ করছে সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। তারাও তাদের নির্বাচনি কৌশল হাতে নিচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও সেটিকে পরিবর্তন করে সারা দেশে আরও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর এ ব্যাপারে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বারবার সতর্ক করে যাচ্ছেন দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের। তিনি বলছেন, আগামী নির্বাচন হবে সবচেয়ে কঠিন নির্বাচন। এ নির্বাচনে জিততে হলে জনগণের কাছে যেতে হবে, জনগণের কাছে থাকতে হবে এবং জনগণকে সঙ্গে রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাজনীতির মাঠে অনৈক্যের সুর ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ভোটের হিসাব-নিকাশ যত এগিয়ে আসছে বিরোধ ততই প্রকাশ্যে রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভোটের অধিকারসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে যারা রাজপথে শামিল ছিলেন, তারা এখন একে অপরকে নিশানা বানাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতির মাঠে অনৈক্যের সুর ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ভোটের হিসাব-নিকাশ যত এগিয়ে আসছে বিরোধ ততই প্রকাশ্যে রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভোটের অধিকারসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে যারা রাজপথে শামিল ছিলেন তারা এখন একে অপরকে নিশানা বানাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগবিহীন মাঠে পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। বিএনপিকে ঠেকাতে ইসলামী আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি (একাংশ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ও খেলাফত মজলিশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি এবং গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে জোট বাঁধার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি ও তৎপরতা জানান দিতে এবার রাজপথে নামছে জামায়াত জোট। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর) জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) তৈরি এবং ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি সামনে রেখে মাঠে নামার ঘোষণা তাদের। এভাবেই বিএনপিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে জামায়াত। এনসিপি ও এবি পার্টি অবশ্য শেষ পর্যন্ত নিম্নকক্ষের নির্বাচনে পিআর দাবি থেকে কিছুটা পিছুটান দিলেও ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের অবিশ্বাস্য বিজয়ে জামায়াতের মনোবল এখন আকাশচুম্বী। জাতীয় নির্বাচনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে তারা অ্যাসিড টেস্ট হিসেবে নিয়ে আশাতীত সফল হয়েছে বলে মনে করছে। একই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নির্বাচনেও জামায়াত মিরাকল ফলাফল করবে বলে আশা করছেন দলটির নীতিনির্ধারণী মহলের অনেকে।
অন্যদিকে দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি নতুন কোনো নির্বাচনি জোটের ঘোষণা এখন পর্যন্ত না দিলেও স্বৈরাচার হাসিনা সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও সমমনা দলগুলোকে নিয়েই তৎপর রয়েছে। এদের সঙ্গে আসন সমঝোতার সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির। এমনকি আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসর ছাড়া আরও কোনো সমমনা দল, জোট কিংবা ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিকে স্বাগত জানাবে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আরও আগে থেকেই আগামী সংসদ নির্বাচন এবং নির্বোচনোত্তর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর এ ঘোষণা এবং ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়কে সামনে রেখেই জনগণের কাছে যাচ্ছে বিএনপি। এতেই বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দৃঢ় আস্থা। আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে জয়লাভের বিষয়েও তারা যথেষ্ট আশাবাদী।
একসময়ের ৫ শতাংশ ভোটের দল জামায়াত ধীরে ধীরে বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। লক্ষ্য- আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে শক্ত অবস্থান তৈরি করা। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে- ডাকসু ও জাকসুসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের অবিশ্বাস্য জয়লাভের ফলে জামায়াত এখন আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের জোরালো স্বপ্ন দেখছে। বিশেষ করে- পতিত হাসিনা সরকারের দল আওয়ামী লীগের সব ভোট দাঁড়িপাল্লায় নেওয়ার জন্য যা যা করা দরকার- তার সবকিছু করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসলামি এ সংগঠনটি। মোদ্দাকথা- ছাত্রশিবিরের বিজয়ের রেশ ধরে জাতীয় নির্বাচনে একই রকমের অবিশ্বাস্য ভূমিধস বিজয় লাভের মাধ্যমে আগামীতে সরকার গঠন করতে চায় জামায়াত।
ক্ষমতায় যাওয়ার আকাক্সক্ষায় জামায়াত মূল দলের বাইরেও ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করে তুলছে। নানা অভিযোগের পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অবিশ্বাস্য ফলাফল দেখিয়েছে শিবির। সামনে আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাকসু) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চাকসু) ছাত্র সংসদ নির্বাচন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে ধরাশায়ী করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিজয়ে উৎফুল্ল জামায়াত। এ প্রসঙ্গে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে বা সংসদ নির্বাচনে ডাকসুর প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করেন না। বিএনপির মিত্রদের মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোটের নেতারাও একই সুরে কথা বলছেন। তারা বলছেন, জাতীয় রাজনীতি ও সংসদ নির্বাচনের বিশাল মঞ্চে ডাকসুর প্রভাব পড়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে- ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন সরকারও ভিন্ন কোনো কৌশল নেয় কি না এবং জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আবার কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি হয় কি না, এমন সন্দেহও তৈরি হয়েছে বিএনপির কারও কারও মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, রাজনীতির মেরূকরণ আর কী হবে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি-এই তিন দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। আবার এর মধ্যে দুই দল একসঙ্গে ফ্রন্ট করতে পারে। আর তারেক রহমান তো আগেই বলেছেন জনগণের ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্ত সব দলকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের মতে, শেষ পর্যন্ত ইসলামপন্থিরা এক লাইনে চলে আসতে পারে। অথবা বিরোধী দল হওয়ার জন্য ইসলামপন্থিরা এক ধারায় ঐক্যবদ্ধ হতে পারে নির্বাচনের আগে। আবার যারা বৈষম্যবিরোধী আছে তাদের থেকে যেসব দল বের হচ্ছে- তাদের মধ্যেও একটা ঐক্য হতে পারে। বাম ঘরানার অথবা সেকুলার ঘরানার-তাদের মধ্যেও একটা ঐক্য তৈরি হতে পারে। তবে এ অবস্থায় বিএনপির বিপরীতে বিকল্প কোনো শক্তি বা ধারা তৈরি হতে আরও সময় লাগবে। এ বিষয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, এনসিপি গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চায়। বিভিন্ন দলের সঙ্গে কয়েকটি বিষয় নিয়ে আমাদের অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। অভিন্ন ইস্যুতে যুগপৎ আন্দোলনের আলোচনাও আছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সানেমের জনমত জরিপ
সম্প্রতি সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) তরুণদের মধ্যে পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা যায়, ৩৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ মতামত পেয়ে বিএনপি শীর্ষে রয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষে মত দিয়েছেন ২১ দশমিক ৪৫ শতাংশ মানুষ। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে।
আওয়ামী লীগবিহীন মাঠে পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। বিএনপিকে ঠেকাতে ইসলামী আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি (একাংশ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি এবং গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে জোট বাঁধার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি ও তৎপরতা জানান দিতে এবার রাজপথে নামছে জামায়াত জোট। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর) জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) তৈরি এবং ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি সামনে রেখে মাঠে নামার ঘোষণা তাদের। এভাবেই বিএনপিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে জামায়াত।
এদিকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পর জাতীয় পার্টিকে (জাপা) নিষিদ্ধের জোর দাবি ওঠে। বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পতিত সরকারের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিয়েছিল দলটি। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই দলটির নেতাদের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবি জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সম্প্রতি জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় মারাত্মক আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিলসহ জাতীয় পার্টির অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এমন প্রেক্ষাপটে দলটিকে নিষিদ্ধের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। তবে দেশের অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপি মনে করে, জাপাকে নিষিদ্ধ নয়, বরং দলটির নেতাদের অপরাধের বিচার হোক। এ ছাড়া জাপাকে নিষিদ্ধের নেপথ্যে রাজনীতির কী সমীকরণ কাজ করছে, তা নিয়েও রয়েছে নানা বিশ্লেষণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাপা নিষিদ্ধ হলে লাভবান হবে ছোট রাজনৈতিক দলগুলো, প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হবে জনপ্রিয়তার বিচারে চতুর্থ বা পঞ্চম স্থানের দলগুলো। তবে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং সংসদে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন জাতীয় পার্টির নেতারা।
অন্যদিকে বর্তমানে দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি নতুন কোনো নির্বাচনী জোটের ঘোষণা এখন পর্যন্ত না দিলেও হাসিনা সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও সমমনা দলগুলোকে নিয়েই তৎপর রয়েছে। এদের সঙ্গে আসন সমঝোতার সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির। এমনকি আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসর ছাড়া আরও কোনো সমমনা দল, জোট কিংবা ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিকে স্বাগত জানাবে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আরও আগে থেকেই আগামী সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচনোত্তর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ ঘোষণা এবং ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়কে সামনে রেখেই জনগণের কাছে যাচ্ছে বিএনপি। এতেই বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দৃঢ় আস্থা। আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে জয়লাভের বিষয়েও তারা যথেষ্ট আশাবাদী।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবির পেছনে বড় ধরনের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ রয়েছে। জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ হলে জামায়াত আসন্ন নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হবে, সেটি স্পষ্টত বলাই যায়, যা জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটতে পারে। তবে জাতীয় পার্টি যদি নিষিদ্ধ না হয়, তাহলে জামায়াতের প্রধান বিরোধী দল হওয়ার সম্ভাবনা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন তারা। পাশাপাশি নির্বাচন ইস্যুতে শক্তি প্রদর্শনে ছোট কিছু দলের জন্যও জাপা নিষিদ্ধ হওয়া সুবিধাজনক। এ ছাড়া যেকোনো ইস্যু ধরে জামায়াত এবং এনসিপি যদি নির্বাচন বর্জন করে, তাহলে বিএনপির জন্য তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ না হলে জামায়াত, এনসিপিসহ আরও কিছু দল বিএনপিকে চাপে ফেলতে পারবে না। এমন কিছু বিষয় আলোচনায় রয়েছে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, অভ্যুত্থানের এক বছর পর এসে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবির পেছনে প্রধানত জামায়াত ও এনসিপির রাজনীতি আছে। জামায়াত মনে করছে, তারা আগামী নির্বাচনে ৭০ থেকে ৮০টি সিট পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হতে পারবে। এমনটা হলে তা হবে তাদের রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন। কিন্তু জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিতে পারলে সেটা হয়তো আর হবে না। কারণ, অনেক আওয়ামী লীগ নেতা আছেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই। তারা তখন জাতীয় পার্টির প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তাহলে জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হয়ে যেতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের মতে, শেষ পর্যন্ত ইসলামপন্থীরা এক লাইনে চলে আসতে পারে। অথবা বিরোধী দল হওয়ার জন্য ইসলামপন্থীরা এক ধারায় ঐক্যবদ্ধ হতে পারে নির্বাচনের আগে। আবার যারা বৈষম্যবিরোধী আছে, তাদের থেকে যেসব দল বের হচ্ছে, তাদের মধ্যেও একটা ঐক্য হতে পারে। যারা বাম ঘরানার অথবা সেক্যুলার ঘরানার, তাদের মধ্যেও একটা ঐক্য তৈরি হতে পারে। তবে এ অবস্থায় বিএনপির বিপরীতে বিকল্প কোনো শক্তি বা ধারা তৈরি হতে আরও সময় লাগবে।
বাড়ছে অনৈক্য সংশয় সন্দেহ
জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত সফল গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী সমন্বয়কদের সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে পালটাপালটি বক্তব্যসহ এক ধরনের বিরোধ স্পষ্ট হচ্ছে। যদিও স্বৈরাচারী হাসিনাবিরোধী ১৫ বছরের আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যাপক অবদান ও ত্যাগ রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের সময় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ইস্যুর সমাধান না হতেই এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম জাতীয় নাগরিক কমিটির তত্ত্বাবধানে শিগগির নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হতে যাচ্ছে। বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যদি অন্তর্বর্তী সরকারের সহায়তায় তারা দল গঠন করেন তাহলে সরকার নিরপেক্ষতা হারাবে। এ সরকারের পক্ষে তখন নিরপেক্ষ নির্বাচন করা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। বিপরীতে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, যদি কোনো উপদেষ্টা নতুন রাজনৈতিক দলে যুক্ত হন তাহলে তিনি সরকারি দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে দল করবেন। এক্ষেত্রে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে না। এছাড়া সমন্বয়কদের কয়েকজন বলেন, এত মানুষের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত গণ-অভ্যুত্থান শুধু নির্বাচন করার জন্য হয়নি। প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং আওয়ামী লীগের খুনি, দুর্নীতিবাজ এবং অর্থ পাচারকারীদের বিচারের আগে নির্বাচন হবে না।
এদিকে এমন বৈরী সম্পর্কের মধ্যে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে কেউ কেউ বিশেষ ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ এমন পরিস্থিতির সুযোগ নেবে, এটাই স্বাভাবিক। ইতোমধ্যে দলের অনেক পলাতক নেতা বিদেশে থাকাবস্থায় বিভিন্ন মাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে দ্রুত নির্বাচনসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার দাবি তুলছেন। যে কারণে সরকার ও সমন্বয়কদের তরফে বলা হয়েছে-বিএনপি তো আওয়ামী লীগের সুরে কথা বলছে।
এ রকম পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জটিল সমীকরণ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তারা বলছেন, নির্বাচন সংস্কার কতটুকু হবে, কবে নাগাদ হবে এবং সংস্কার শেষে নির্বাচন কবে হবে-এমন বিতর্কের পর এখন নতুন করে যুক্ত হলো অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন। এটি পানি অনেক ঘোলা করতে পারে।
এমনকি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। সামনে চলে আসছে বাহাত্তরের সংবিধান বাতিল, নতুন সংবিধান রচনা, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ঘোষণাপত্র প্রণয়ন, এমনকি রেফারেন্ডাম বা গণভোটের আয়োজন নিয়েও মাঠ সরগরম হতে পারে। এক কথায় বলা যায়, স্বার্থের দ্বন্দ্বে ভেঙে পড়ছে জুলাই বিপ্লবের জাতীয় ঐক্য। তবে দেশের স্বার্থে এ মুহূর্তে সবার আগে হাসিনাবিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐক্য থাকাটা জরুরি।
জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, বিরোধগুলোও তত স্পষ্ট হতে থাকবে। যার যার স্বার্থের বিষয়ে রাখঢাক সরে যাবে। কে কাকে ল্যাং মেরে এগিয়ে যাবে সেই চেষ্টা চলতে থাকবে। আক্রমণ, প্রতি-আক্রমণ বাড়বে। বিএনপি যদি দেখে সামনের নির্বাচনে ছাত্ররা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী, তাহলে তারা ছাত্রদেরও ছাড় দেবে না। এটাই স্বাভাবিক। এটাই রাজনীতি। অন্যদিকে ছাত্ররাও দেখছে তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এখন বিএনপি। তাই তারাও বিএনপির বিষয়ে কথা বলছে। ইতোমধ্যে এসব আলামত কিন্তু শুরু হয়ে গেছে। কয়েকটি দল ইতোমধ্যে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনী উচ্চ আদালতে বাতিল হয়েছে। এ কারণে আপনা আপনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে এসেছে। বর্তমান সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলা যাবে না। এটা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কেউ যদি এই সরকারের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করে, তা করার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। অনেকে মনে করে, এ সরকার সামনের দিনগুলোতে নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে না পারলে নির্বাচন আয়োজনের যোগ্যতা হারাবে।
সম্প্রতি বিবিসি বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করলে সরকার থেকে বেরিয়ে এসে সেটা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল গঠন করা গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সেক্ষেত্রে আমরা তাদের স্বাগত জানাব। কিন্তু একটা কথা অলরেডি উঠে আসছে মিডিয়াতে। কিংস পার্টি বলে একটা কথা উঠছে। আমি মনে করি, এখান থেকে তাদের বেরিয়ে আসা উচিত। অর্থাৎ সরকারের কোনো সাহায্য না নিয়ে তারা যদি দল গঠন করতে চান, সেটা তাদের জন্যই ভালো হবে।
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে না পারলে নির্বাচন করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে চায় বলে জানা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারে নিজেদের প্রতিনিধি রেখে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনীতিবিদদের মতে, পতিত সরকারের লোকজন বিদেশে গিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে। এ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তারা দেশের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জনগণ নির্বাচনমুখী হলে আর কেউ ষড়যন্ত্র করতে সাহস পাবে না।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেও বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের কথা বলে আসছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘সরকার নির্বাচন আয়োজনের অপেক্ষায় রয়েছে, তবে এখন দেশের জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রক্রিয়াটি কেমন হবে। তারা কি ছোট পরিসরের সংস্কার কর্মসূচিতে যাবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার চাইবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গণমাধ্যমকে বলেন, ৫ আগস্টের পক্ষে যারা ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি কাম্য নয়। ঐক্যে ফাটল ধরলে ফ্যাসিস্টরা সুবিধা নেবে বলেও মনে করেন তিনি। সম্প্রতি নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের উপদেষ্টা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের এই নেতা একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত নির্বাচন চাই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বোঝাপড়ায় যে ফাটল রয়েছে, সেটি দিন দিন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। আর এতে করে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসররা। বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলনে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও সম্প্র্রতি এক ধরনের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর এবং এক দলের সঙ্গে অন্য দলের পারস্পরিক অবিশ্বাস, সংশয়, সন্দেহ বাড়ছে।
ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ব্যানারে গড়ে ওঠা কোটাবিরোধী আন্দোলন শেষমেশ সরকার পতনের একদফার আপসহীন সংগ্রামে রূপ নেয়। মৃত্যু ভয়ে ভীত না হয়ে দেশের ছাত্র-জনতা, সাধারণ মানুষ পুলিশের বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে যান।
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষাথী আবু সাঈদের অকুতোভয় বিপ্লবী মৃত্যু ক্ষোভে-বিক্ষোভে সবাইকে রাজপথে এনে শামিল করে। একে একে শহিদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ দেশের জন্য অকাতরে জীবন উৎসর্গ করেন। আহত হন হাজার হাজার। এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ছত্রিশে জুলাই (৫ আগস্ট)। জনতার বিজয়। গণমানুষের বিজয়।
সফল গণ-অভ্যুত্থানের ২ দিন পর ছাত্র-জনতার আহ্বানে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ফ্রান্স থেকে দেশে ফিরে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল, কোটি কোটি মানুষের সমর্থন নিয়ে যাত্রা শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, অনলাইন মিডিয়া











