ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬



  বিভাগ : জাতীয় তারিখ : ০২-১০-২০২৫  


ডাকসু, জাকসু নির্বাচনে শিবিরের উত্থান

ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধীদের বিপর্যয় চ্যালেঞ্জের মুখে এনসিপি?


  আশরাফুল হোসেন ভুঁইয়া



ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ বা বাগছাসের এবং ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের। এক বছর আগে যে তরুণদের নেতৃত্বে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই নেতৃত্বের একটা বড় অংশ কেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলো সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। শুধু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠনই নয়, চরম ভরাডুবি হয়েছে ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন কিংবা বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রার্থীদেরও। গত বছর অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী ও গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা। যে কারণে অনেকের মধ্যে ধারণাও তৈরি হয়েছিল বৈষ্যমবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বা বাগছাস প্যানেলের প্রার্থীরাই এই ডাকসু-জাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্র সংসদে ভাল ফলাফল পেতে পারে।
এবং এই নির্বাচনে জয়ের ফলাফল ঘরে তুলবে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি। কিন্তু এমন ভরাডুবির পর বিষয়টি নতুন করে ভাবাচ্ছে এনসিপিকে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য সচিব ও বর্তমানে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল গণমাধ্যমকে বলেছেন, যদি বাগছাস এই ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগরে ভালো ফল করতে পারতো তার ইতিবাচক প্রভাব এনসিপির রাজনীতিতেও পড়তো। তবে তারা এটিও মনে করছেন যে, গণঅভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের কিছু কিছু কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পড়েছে। যে কারণে হতাশাজনক ফলাফল এসেছে ডাকসু কিংবা জাকসুতে। অন্যদিকে, সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রভাব এই নির্বাচনে পড়েছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর নির্বাচনের ফলকে প্রত্যাখ্যান না করলেও বাম সংগঠনগুলো এমন ফলাফলকে একেবারেই স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না। যে কারণে তারা এই কারণগুলো মূল্যায়নের কথাও জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, দলীয় লেজুরবৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির কারণে ছাত্রদল এবং ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে এনসিপির পরিচিতি তৈরি হওয়ার বিষয়টি বাগছাসের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবচেয়ে বেশি সরব ছিল বাগছাস ও বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিয়েছে, তারা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে চমক দেখাতে পারলে এনসিপির রাজনীতিতে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে, এমন ধারণা এনসিপি নেতাদের মধ্যে শুরু থেকে ছিল। যে কারণে ক্যাম্পাসগুলোয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে যে সব আন্দোলন হয়েছে, সেখানে নেতৃত্বেও ছিলেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ডাকসুর নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরুর পর দেখা গেছে, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী ও এনসিপির কেউ কেউ আলাদা তিনটি প্যানেলে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। পরবর্তীতে সে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করলেও ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদের কোন পদেই জয় পায়নি বাগছাসের নেতৃত্বাধীন প্যানেল। অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ছোট দুটি পদে জয় পেয়েছে বাগছাস প্যানেল। এমন ভরাডুবির পর এ নিয়ে অসন্তোষও কাজ করছে দলটির মধ্যে। ডাকসুতে বিভিন্ন পদে বাগছাস প্যানেলের প্রার্থীদের ভোটও পেয়েছে অনেক কম। প্যানেলগত অবস্থানের দিক থেকেও সেই চতুর্থ কিংবা পঞ্চম।
বড় দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের এমন ফলাফলের কারণ হিসেবে নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও কিছু কিছু নেতাকর্মীর নেতিবাচক ইমেজকে দায়ী করছেন এনসিপির নেতারা। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম আদীব বিবিসি বাংলাকে বলেন, একেতো প্রস্তুতি নেওয়ার ঘাটতি ছিল। অন্যদিকে বাগছাসের সাংগঠনিক কাঠামোও ছিল দুর্বল। যে কারণে আশানুরূপ ফল পায়নি এনসিপি।
অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারের উপদেষ্টা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রভাব ফেলেছে বলেও মনে করছেন দলটির নেতাদের কেউ কেউ। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বলেন. “আমাদের কেউ কেউ রাষ্ট্র পরিচালনার খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। তাদের অনভিজ্ঞতা, অক্ষমতা কিংবা তাদের নিয়ে মিডিয়া ট্রায়ালও হয়েছে। ফলে একটা বিতর্কিত ইমেজ তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব পড়তে পারে এই নির্বাচনে”। এর বাইরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি কিংবা অন্যান্য নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে এনসিপি নেতাদের কেউ কেউ জড়িয়েছেন। যার কারণে ছাত্রদের এই সংগঠনটির ভোটে প্রভাব পড়েছে বলেও দলটির নেতারা মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছিলেন, আরও একটি কারণ আছে বাগছাসের এমন পরাজয়ের পেছনে সেটি হলো অনেকেই এনসিপিকে কিংস পার্টি মনে করে। আর শিক্ষার্থীরা সব সময় স্টাবিলিশমেন্টের বিপক্ষে যে কারণে এই প্রভাবও পড়েছে তাদের নির্বাচনে। ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের প্রচার প্রচারণায় ব্যাপক সরব দেখা গেছে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের। কিন্তু ভোটের ফলে গিয়ে দেখা গেছে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়েই চরম ভরাডুবি হয়েছে ছাত্রদলের। তবে দুটি নির্বাচনেই ভোটের দিন সকাল থেকেই নানা ধরনের অভিযোগের কথা গণমাধ্যমে বলছিলেন ছাত্রদলের প্রার্থীরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের দিন বিকেলে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণাও দেয় ছাত্রদলের প্যানেল।
দেশের বড় দুটি ক্যাম্পাসে এই মুহূর্তে দেশের সর্ব বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এমন ভরাডুবি হবে, সেটি আগে থেকে আঁচ করতেই পারেনি বিএনপি। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের এমন ফলাফল কেন হলো সেটি আমরা মূল্যায়ন করার চেষ্টা করছি। এর নেপথ্যে কী ছিল সেটিও আমরা মূল্যায়নের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। ছাত্রদলের এই শীর্ষ নেতা এটিও বলেছেন যে, শিগগিরই তারা এই মূল্যায়নের কাজ শেষ করে দূর্বলতাগুলোকে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবেন।
জাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণের শেষ দিকে এসে ছাত্রদল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণাও দেয়। ছাত্রদল সভাপতি রাকিব বলেন, তাদের কাছে যে তথ্য আছে তাতে তারা মনে করেন, জাকসু নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি হয়েছে। যে কারণে ছাত্রদল সেখানে নির্বাচন বয়কটও করেছে। ডাকসুর সাবেক জিএস মুশতাক হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এসেছে। ছাত্রদের অনেকে মনে করেছে ছাত্রদলের আচরণ হতে পারে ছাত্রলীগের মতো। আর ছাত্রদল জিতলে সেই পুরনো কায়দার রাজনীতি ফিরতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকে হয়তো অনেকে ছাত্রদলকে ভোট দেয়নি”। এসব অভিযোগকে খারিজ কিংবা গ্রহণ কোনোটিই আপাতত করছে না ছাত্রদল। দলটি পরবর্তী রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি ব্যর্থতার মূল্যায়ন করেই সামনের নির্বাচনগুলোতে জয় পেতে চাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রদল সভাপতি।
বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু নির্বাচনে অতীতে কখনও জয়ের কাছাকাছি যাওয়া, এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই আসতে পারেনি ইসলামী ছাত্রশিবির। জামায়াতে ইসলামীর এই সহযোগী সংগঠনটি এবার ভূমিধস জয় পেয়েছে। ছাত্র শিবিরের এই জয়ের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তাদের সঙ্গে দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি সমর্থিত ছাত্রদলের প্রার্থীদের ভোটের ফারাকটা অনেক। আর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভরাডুবি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনে জাতীয় নির্বাচনের কয়েকমাস আগে ডাকসুর নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাজনীতিতে চলছে নানা আলোচনা। এর কোনো প্রভাব আগামী সংসদ নির্বাচনে ও জাতীয় রাজনীতিতে পড়তে পারে কি না, এমন প্রশ্নও কেউ কেউ তুলছেন।
এদিকে, যেভাবে পরাজিত হয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, সেই বাস্তবতা সম্পর্কে সংগঠনটির এবং বিএনপির ধারণা ছিল না বলে তাদের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে মনে হয়েছে। এছাড়া তাদের প্রস্তুতিতেও ঘাটতি ছিল বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে বলছেন। তবে রাজনীতিকদেরই অনেকে মনে করছেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা যেতে চায়, তাদের পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের জন্যই বার্তা রয়েছে এবং সচেতন হওয়া প্রয়োজন। রাজনীতিকদের অনেকে আবার ডাকসুর প্রভাবের বিষয়কে সেভাবে গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, ডাকসু নির্বাচন থেকে সমগ্র বাংলাদেশকে বিবেচনা করার কোনো কারণ নেই। অবশ্য ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে চলেছে পর্যালোচনা,বিশ্লেষণ। যদিও ছাত্রদল ডাকসুর ফলাফল প্রত্যাখান করেছে। কিন্তু পরিস্থিতি অস্থির হলে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে, সেই দায় এড়াতে ছাত্রদল ও বিএনপি বাস্তবতা মেনে নিচ্ছে বলে নেতাদের কেউ কেউ বলছেন। এছাড়া বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ডাকসুর ফলাফল নিয়ে যাতে কোনো সংঘর্ষ বা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল না হয়, সে ব্যাপারে মঙ্গলবার সেই নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকেও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। শেষপর্যন্ত ভিন্ন কোনো অবস্থানে যায়নি বিএনপি।
ছাত্রদলের ঘাটতি বা দুর্বলতা ছিল কোথায়
ডাকসুতে বিপর্যয়ের পর বিএনপির ছাত্র সংগঠনটি ভোটে অস্বচ্ছতা, অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগ করেছে প্রকাশ্যে। ছাত্রদল ও বিএনপি নেতাদের অনেকে এমন অভিযোগও করছেন যে, ডাকসুর ভোটের ব্যাপারে ছাত্রলীগের সঙ্গেও ছাত্রশিবিরের আঁতাত হয়েছিল। ছাত্রশিবির অবশ্য এসব অভিযোগ মানতে রাজি নয়। তবে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতৃত্ব প্রাথমিকভাবে নিজেদের কিছু দুর্বলতার বিষয়ও চিহ্নিত করেছে বলে জানা গেছে। প্রথমত, ডাকসু নির্বাচনের শুরু থেকে তাদের কর্মকাণ্ড চলেছে এডহক ভিত্তিতে। ছিল না সমন্বিত পরিকল্পনা। শেষপর্যায়ে যখন বিএনপির নেতৃত্ব ডাকসুর দিকে নজর বাড়িয়েছে, তখন ছাত্রদল ও মূল দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সক্রিয় হয়েছেন। কারণ হিসেবে বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বড় সংগঠন হিসেবে ছাত্রদল প্রার্থীরা জয়ী হবেন, কিন্তু এতটা বিপর্যয় হবে-সেই ধারণা তাদের ছিল না। নির্বাচনে যে নানারকম কৌশল থাকে, তাতেও তাদের ঘাটতি ছিল। বিজয় হবে, এমন ধারণা থেকে ছাত্রদল একক প্যানেল দিয়েছিল। তবে ছাত্রশিবিরের বাইরে অন্য প্যানেলগুলো যে সংখ্যায় ভোট পেয়েছে, তা ছাত্রদলের ভোটের সঙ্গে যোগ করলে শিবিরের ভোটের চেয়ে সংখ্যায় বেশি হয়। সেখানে ছাত্রদলের ঐক্যবদ্ধ প্যানেল তৈরির কোনো চেষ্টা ছিল না। কিন্তু ছাত্রশিবির কোনো কোনো পদে তাদের সংগঠনের বাইরে প্রার্থী করে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের’ নামে বা ভিন্ন ব্যানারে প্যানেল দিয়েছিল। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ ছাত্রদলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের সাড়ে পনেরো বছরের শাসনে নিপীড়নের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি ছাত্রদল। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বা আবাসিক হলে অবস্থান করে ছাত্র সংগঠনটি যেহেতু কর্মকাণ্ড চালাতে পারেনি, ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের রিক্রটমেন্ট বা সদস্য সংগ্রহ সেভাবে হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষর্থীদের মধ্যে শক্ত অবস্থান বা সেভাবে প্রভাব এখনও তৈরি করতে পারেনি ছাত্রদল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর অবস্থান নড়বড়ে। জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের ছাত্র নেতৃত্বের দল এনসিপি সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেরও প্রভাব কমেছে। ডাকসুর ফলাফলে সেটাই প্রমাণ হয়। এর বিপরীতে দেখা গেছে, বছরের পর বছর ধরে ছাত্রশিবির প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে না পারলেও গোপনে বা কৌশলে তারা তাদের সংগঠনের বিস্তার ঘটিয়েছে। এমনকি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পদ-পদবী নিয়েও ছাত্রশিবিরের কোনো কোনো নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের পতনের পর তারা প্রকাশ্যে এসেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, ছাত্রশিবিরের উত্থানের জন্য দায়ী ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। সেই আওয়ামী লীগ সরকার ও ছাত্রলীগের নিপীড়নের কারণে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ক্যাম্পাসগুলোতে কার্যক্রম চালাতে পারেনি। অন্যদিকে, ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় ছাত্রশিবির গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়েছে বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা। ফলে বিশ্লেষকদের পাশাপাশি বিএনপি নেতাদেরও অনেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রদলের শক্ত ভিত্তি না থাকার বিষয়কে ডাকসুতে বিপর্যয়ের অন্যতম একটি কারণ হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের অনেকে আবার ছাত্রদলের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রশ্নও তুলছেন।তাদের বক্তব্য হচ্ছে, অতীতে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ক্যাম্পাসগুলোতে ক্ষমতার দাপটে ছাত্রদলের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। আর আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলসহ নানা অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের শাসনে যেমন ক্যাম্পাসগুলোতে আবাসিক হল দখল ও গণরুমে নিপীড়নের আভিযোগ রয়েছে। অতীতে বিএনপি সরকারের সময়ও হলগুলোতে গণরুম ও নিপীড়নের অভিযোগ ছিল।
লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, হলগুলোতে গণরুম ও নিপীড়ন আবার ফিরে আসবে কি না, এই প্রশ্নে ছাত্রদলের প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থার সংকট রয়েছে। সেই ন্যারেটিভ ছাত্রদল ভাঙতে পারেনি বা শিক্ষার্থীদের অস্থার অভাব দূর করতে পারেনি। ছাত্রশিবির যেহেতু এখনও সে ধরনের কোনো ন্যারেটিভ বা ধারণা তৈরি হয়নি। ফলে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শিবির একটা সুবিধা পেয়েছে বলে মনে করেন মি. আহমদ। ডাকসুতে প্যানেল দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং নির্বাচনী প্রচারণাতেও কৌশলী ছিল ছাত্র শিবির। তারা ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থীর জোটের’ ব্যানারে প্যানেল দিয়েছিল। তবে তাদের বড় কৌশল ছিল নির্বাচনী প্রচারণায়। জামায়াতের সমর্থক সংগঠন হলেও ছাত্রশিবির ডাকসুতে প্রচারণায় ধর্মভিত্তিক ও ডানপন্থী চিন্তার বিষয়গুলো আনেনি। অন্য দলগুলোরও নজরে এসেছে শিবিরের এই কৌশল।
জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ডানপন্থী বা ধর্মভিত্তিক বক্তব্য না টেনে ছাত্রশিবির মধ্যপন্থী জায়গা থেকে ডাকসু নির্বাচন পরিচালনা করেছে, সেটি তাদের জয়ের পক্ষে অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।” বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে এখনও যে প্রশ্ন রয়েছে, ডাকসু নির্বাচনে সেই ‘৭১ প্রসঙ্গও আনেনি ছাত্রশিবির।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, দশকের পর দশক ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির চেষ্টা ছিল। সেজন্য দীর্ঘ সময় তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গোপনে কর্মকাণ্ড চালিয়ে তাদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়িয়েছে। আর এর সঙ্গে গত বছরের অগাস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ওই ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের প্রকাশ্য অবস্থান দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়।
এখন ডাকসুই তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ডাকসুতে এই প্রথম ছাত্রশিবিরের ভূমিধস জয়ের ঘটনা রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। রাজনীতিকদের অনেকে বলছেন, ডাকসুতে ছাত্রশিবির ও জামায়াত সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে লম্বা সময় ধরে কাজ করে তার ফলাফল পেয়েছে। যে ধরনের কৌশল বা পরিকল্পনা অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোর বা তাদের মূল রাজনৈতিক দলগুলোর সেভাবে ছিল না বলে মনে করেন ওই রাজনীতিকরা। তবে তারা ছাত্রশিবিরের এ অবস্থানে আসার ক্ষেত্রে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা দেখছেন। কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বিবিসিকে বলেন, যে শক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছে, তাদের উত্থানে অন্য সব দলেরই ব্যর্থতা আছে। যদিও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, ডাকসুতে এবার ৭১ বা মুক্তিযুদ্ধ সেভাবে ইস্যু হয়নি। সেটি ছাত্রশিবিরের একটি বড় কৌশল ছিল।
জাতীয় নির্বাচন ও রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে কি
গত এক বছরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। সংস্কার ও নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে দলদুটির অবস্থান বিপরীতমুখী। ভোটের আনুপাতিক হার বা পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চায় জামায়াত। দলটির নেতারা এখনও তাদের সেই অবস্থানে অটল থাকার কথাই বলছেন। আর বিএনপি রয়েছে বিদ্যমান সরাসরি ভোটের পক্ষে। বিএনপি কেন্দ্রীয় একজন নেতা বলেছেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অসন্তুষ্টি রয়েছে। ফলে তাদের সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব আরও বাড়তে পারে। এছাড়াও বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ মনে করেন,যদিও ডাকসুতে সরাসরি ভোটে ছাত্রশিবির জিতেছে। কিন্তু এই জয়ের পর জামায়াত সংসদে পিআর পদ্ধতির দাবিকে আরও জোরালোভাবে সামনে আনতে পারে। অন্যদিকে, ডাকসু নির্বাচনের পর সরকারও ভিন্ন কোনো কৌশল নেয় কি না এবং জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আবার কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি হয় কি না, এমন সন্দেহ তৈরি হয়েছে বিএনপির কারও কারও মধ্যে।
তবে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে বা সংসদ নির্বাচনে ডাকসুর প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করেন না। বিএনপির মিত্রদের মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোটের নেতারাও একই সুরে কথা বলছেন। তারা বলছেন, জাতীয় রাজনীতি ও সংসদ নির্বাচনের বিশাল মঞ্চে ডাকসুর প্রভাব পড়ার কোনো সুযোগ নেই। ইসলামপন্থি দলগুলোর নেতাদের অনেকে আবার ভিন্ন ধারণা তুলে ধরছেন।
জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ ধর্মভিত্তিক যে দলগুলো জাতীয় নির্বাচনে এক মঞ্চে আসার চেষ্টা করছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ডাকসুতে শিক্ষার্থীরা দখল-চাঁদাবাজির পুরোনো রাজনীতিকে প্রত্যাখান করে বিকল্প বেছে নিয়েছে। এর প্রভাব জাতীয় নির্বাচনেও পড়তে পারে বলে এখন তারা মনে করছেন।
তবে, জাতীয় রাজনীতি ও সংসদ নির্বাচনে ডাকসুর ভোটের প্রভাব আসলে পড়তে পারে কী না, সেই প্রশ্নে রাজনীতিকদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত বা আলোচনা রয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মানুষের আস্থা অর্জনে রাজনীতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন, ডাকসু নির্বাচন সব দলের জন্যই একটা বার্তা দিয়েছে।
ছাত্রশিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পেছনে কী কারণ
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্র শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রায় নিরঙ্কুশ জয় হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এবারই প্রথম এমন বিজয় অর্জন করল তারা। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিজয়ীদের সাথে তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোটের দূরত্বও বেশ কয়েক হাজারের। ডাকসুর ভিপি পদে জয়লাভ করা সাদিক কায়েমের সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের ভোটের ব্যবধান নয় হাজারেরও বেশি। নির্বাচনের ফলাফল ঘাঁটলে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি পদের বিপরীতেই এই ব্যবধান লক্ষ্যণীয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিগত ২০-২৫ বছরের প্রকাশ্য ছাত্র রাজনীতিতে ছাত্র শিবিরের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। প্রশ্ন উঠেছে, ছাত্রশিবিরের ডাকসু ও হল সংসদের এই বিজয়ে তাহলে কোন কোন ‘ফ্যাক্টর বা অনুঘটক’ কাজ করেছে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ডাকসুর সাবেক ছাত্রনেতারা মনে করেন, জুলাই-অগাস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মূল পরিকল্পনা থেকে মাঠ পর্যায়ের সব নেতৃত্বে শিবিরই ছিল, এমন ন্যারেটিভই ডাকসু নির্বাচনে তাদের জয়লাভের অন্যতম একটি কারণ। বিশ্লেষকরা এও বলছেন, অন্য ছাত্র সংগঠনের ‘পদ-পদবি নিয়ে বা আন্ডারগ্রাউন্ডে’ থেকেও নিজেদের সংগঠনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতা-কর্মীদের অনেকে। যারা আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ছাত্রশিবিরের ব্যানারে প্রকাশ্যে এসেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি ও ছাত্রশিবির নেতা সাদিক কায়েম, যে কেউ যে মতেরই হোক না কেন সবাই একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি প্রথমেই জুলাই গণ অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করেন। এই জয়ে জুলাইয়ের আকাক্সক্ষার বিজয় হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অর্থাৎ গণ অভ্যুত্থানকেই ডাকসুর নির্বাচনে বিজয়ের ক্ষেত্রে মূল প্রেক্ষাপট বলে মনে করেন তিনি। আর শিবিরের ঢাবি শাখার সভাপতি ও ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস এস এম ফরহাদ জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাকে যোগ্য মনে করেছেন তাকেই ভোট দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, গত এক বছরে জুলাইয়ের গণ অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের যে ন্যারেটিভ দাঁড় করানো হয়েছে, তা ভোটারদের প্রভাবিত করেছে। গণ অভ্যুত্থানের মালিকানা নিয়ে যে বাহাস ছিল, সেখানে শিবির বলেছে, গণ অভ্যুত্থানের মূল পরিকল্পনা থেকে আন্দোলনের নেতৃত্বের সব কিছুতে যেমন - প্রোফাইল লাল করা, এক দফার দাবি, সেøাগান সবকিছুর মূলে ছিল তারা। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে তারা তখন পরিচয় সামনে আনেনি।
অন্যদিকে, ডাকসুর সাবেক ছাত্র নেতা মুশতাক হোসেন মনে করেন, স্বাধীনতার পর থেকে যে ধারার রাজনীতি প্রচলিত তার থেকে বর্তমান প্রজন্ম আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। নানা বৈষম্যের বিপরীতে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর নানা প্রতিশ্রুতিতে তাদের সুযোগ দেওয়ার কথা তরুণ প্রজন্ম বিবেচনা করেছে বলে মনে করেন সাবেক এই ছাত্রনেতা।  তার মতে জুলাই গণ- অভ্যুত্থানে র‌্যাডিকেল ইসলামিস্ট শক্তি যে ভূমিকাটা নিয়েছে, সেটা না হলে শেখ হাসিনার শক্তিশালী শাসনের হাত থেকে মুক্ত হওয়া যেতো না। এটি সিমপ্যাথি হিসেবে হয়তো কাজ করেছে বলে আমার মনে হয়। তবে শিবিরও যদি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী পথে যায় তবে তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ সংঘটিত হতে বেশি সময় লাগবে না বলে মন্তব্য করেন ডাকসুর সাবেক এই জিএস।
নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন বাম সংগঠনের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রগতিশীল ও বাম সংগঠনগুলো বিভিন্ন প্যানেলে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। জাকসুতে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতির ঐক্য, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের সংশপ্তক পর্ষদ, ছাত্র ফ্রন্টের একাংশ ছোট একটি প্যানেল ঘোষণা করে আলাদা আলাদা ভোটে অংশ নিয়েছিল। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোট বর্জন না করলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার অন্তত ঘণ্টা খানেক পড়ে বাম সংগঠনগুলো নির্বাচন বয়কট করে। ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচনে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেছে দুটি নির্বাচনেই চরম ভরাডুবি হয়েছে এই বাম সংগঠনগুলোর।
সত্তর কিংবা আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে বাম সংগঠনের প্যানেল থেকে অনেক নেতৃত্ব তৈরি হতো। অনেককে ভিপি জিএসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়লাভও করতে দেখা যেতো।
কিন্তু এবার ডাকসু কিংবা জাকসুতে ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে বাম সংগঠনগুলোর ফলাফলও ছিল বেশ হতাশাজনক। তবে এই ফলাফলকে স্বাভাবিক মনে করছেন না প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ বলেন, আমারা এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান না করলেও এই দুটি নির্বাচন নিয়েই আমাদের যথেষ্ট সংশয় ও সন্দেহ আছে। এই বিষয়গুলোর উত্তর খুঁজছি আমরা।
ছাত্র ইউনিয়নের এই নেতা মনে করছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম না হলেও কোনো না কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। আর জাহাঙ্গীরনগরে অনিয়ম বিশৃঙ্খলার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তিনি। এর বাইরে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর অনেকেই মনে করছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে যে শৃঙ্খলা কমিটি হয়েছে, সেখানে দায়িত্ব পালনে ছিলেন শিবির নেতাদের অনেকেই। সেই কমিটিকে কাজে লাগিয়ে তারা এই নির্বাচনের ফলাফল ঘরে তুলেছে বলেও মনে করছেন বাম সংগঠনগুলোর নেতারা। এটিকে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের পরাজয়ের একটি কারণ মনে করছেন তারা। ঁ তথ্যসূত্র: বিবিসি, অনলাইন


 নিউজটি পড়া হয়েছে ৪৩ বার  






 

জাতীয়

 
From Shaheed Minar to Cyberspace: Women, Resistance, and the Hidden Wounds of a Digital War

 
সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে এসজেএফ-এর বৈঠক

 
শহীদ মিনার থেকে সাইবার স্পেস: অদম্য নারী ও ডিজিটাল যুদ্ধের ক্ষত

 
নতুন সমীকরণের পথে রাজনীতি!

 
বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে দিল্লির ভাবনা!

 
নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা!

 
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা

 
ধনী ও দরিদ্রের ভাগ্যখেলা

 
‘ব্রেভ অফ হার্ট’: মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিল

 
জার্মানিতে বাংলাদেশীদের একটি অধ্যায় ও আমাদের জাতীয় সঙ্গীত বিতর্ক

জাতীয় বিভাগের আরো খবর






 

আমাদের  মানচিত্র

ঠিকানা: দেওয়ান কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৬০/ই/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
ঢাকা: পল্টন রিসোর্সফুল সিটি, ৫১/এ পুরানা পল্টন (৪র্থ তলা), ঢাকা-১০০০।
নারায়ণগঞ্জ: ৪৫/৩ মতিন ভিলা, হাজী ব্রাদার্স রোড, জামতলা, নারায়ণগঞ্জ।

ফোন: ০১৯১৪-৭৩৫৮৫৮, ০১৯১৪-৮৭৫৬৪০

 


সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি
আবদুল্লাহ আল হারুন
প্রধান সম্পাদক
আসিফ হাসান নবী

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো. জিয়াউল হক
বিশেষ সংবাদদাতা
র‌বিউল ইসলাম সো‌হেল

 


President of the Editorial Board
Abdullah Al-Harun
Chief Editor
Asif Hasan Nabi

Editor & Publisher
Md. Ziaul Haque
Special Correspondent
Robiul Islam Sohel

  Location Map
Copyright © 2012-2026

All rights reserved

concept, design
& developed by

corporate work
 

  info@amadermanchitra.news       amadermanchitrabd@gmail.com